লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট কারাগার চত্বরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বন্দিদের জন্য স্বজনদের বাড়ি থেকে আনা পোলাও, মাংস খাবার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছেন। লালমনিরহাট জেলা কারা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া তাদের দেখতে আসা স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ ও কারাগারের পক্ষ থেকে বিশেষ বিশেষ রকমের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
লালমনিরহাট কারাগার চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা বন্দি থাকা স্বজনের জন্য বাড়িতে রান্না করা পোলাও, মাংস ও সেমাই মিষ্টান্নসহ বিভিন্ন খাবার নিয়ে এসেছেন। পরে সেগুলো কারাগার নিয়মতান্ত্রিকভাবে কারা কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রতিটি খাবার পরীক্ষা করে কারারক্ষীরা স্বজনের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
উন্নতমানের খাবারের পাশাপাশি বন্দিদের জন্য বিভিন্ন উপকরণ ও কারাগারে আগত তাদের স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণসহ নানা আয়োজন করা হয়। ঈদের তৃতীয় দিন বিকালে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের উন্নত মানের খাবার দেওয়ার পাশাপাশি কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুস্থ অসহায় বন্দি ও মানসিক ভারসাম্যহীনদের মাঝে বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী সামগ্রী, জামা ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়। বন্দিদের আত্মীয়স্বজনদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত ফুল, শিশুদের চকলেট ও তৃষ্ণার্থ দর্শনার্থীদের দিচ্ছেন বিশুদ্ধ খাবার পানি। প্রত্যেক বন্দিদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে দেখা সাক্ষাৎ এমনকি মোবাইলে কথা বলার বিশেষ সুযোগ করে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
সাইফুল ইসলাম বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের এমন আয়োজনে খুশি বন্দিদের সঙ্গে দেখা করাতে আসা স্বজনরা। এজন্য তারা জেলা কারাগারের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
কারাগারের বাইরে বন্দিদের সঙ্গে দেখতে আসা লালমনিরহাটের বাসিন্দা জুলেকা খাতুন জানান পারিবারিক কলহের কারণে তার ছেলে জাহেদুল (৩০) ৬ মাস থেকে জেলে রয়েছেন। ঈদের ৩য় দিন তাকে দেখতে গিয়ে বাসার রান্না করা খাবার দিয়েছি। কোনো ঝামেলা হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষের এমন আয়োজন দেখে আমরা খুশি।কথা হয় কারাগারে বন্দি থাকা কয়েকজন কয়েদির সঙ্গেও। তারা জানান, সমগ্র কারাগারের সার্বিক চিত্র পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে এখন আর সমস্যা নেই। ঈদের দিন ভালো খাবার ও নামাজের সুব্যবস্থা করা হয়। বন্দিরা ও কারা কর্তৃপক্ষ মিলে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছি।
আমাদের স্বজনদের দেওয়া বাসার খাবার কোনো সমস্যা ছাড়াই খুব সহজেই পেয়েছি।
লালমনিরহাট জেলা কারাগারের জেলার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহিল ওয়ারেস বলেন, আগামীতে ভালো কাজের এ ধারা অব্যাহত থাকবে এবং লালমনিরহাট কারাগার একটি আধুনিক সংশোধনাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ডিআইজি প্রিজন্স রংপুর, জেলা প্রশাসক, ও জেল সুপারের সময়োপযোগী দিক নির্দেশনা এ ঈদ আয়োজন করা হয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2025 সংবাদের আলো. All rights reserved.