জিয়াউর রহমানের পর সবচেয়ে সফল সরকার হবে ইউনূস সরকার


সংবাদের আলো ডেস্ক: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত জনসমর্থন নিয়ে এর আগে কোনো সরকার (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) আভির্ভূতও হয়নি। আমার দৃষ্টিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের তিন-সাড়ে তিন বছরের সরকার পরিচালনার পরে সবচেয়ে সফল সরকার হবে প্রফেসর ড. ইউনূসের এপিসোড। আর এটা সময়ের ওপর নির্ভর করবে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে ঈদ উপলক্ষ্যে এবি পার্টির উদ্যোগে সাংবাদিক ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবি পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটির উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হচ্ছে একটি গণঅভ্যুত্থানের সরকার। এ সরকার যদি সবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে ২-৩-৪ বছর থাকতে পারে তাহলে গত ৪-৫ বছর ধরে আমাদের মাঝে সিঙ্গাপুর, মালেয়শিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা ছিল সেই পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো গত ১৬-১৭ বছর ধরে বলে আসছে ভোট, নির্বাচন ও গণতন্ত্র চাই। আর তরুণদের আকাঙ্ক্ষা যেগুলো দেয়ালে দেয়ালে লেখা হয়েছে সেখানে অবিলম্বে নির্বাচনের কথা বলা নেই। তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ভিন্ন হলেও মর্যাদার জায়গায় দুটিই সমান। রাজনৈতিক দলের আকাঙ্ক্ষাগুলো যেমন ন্যায্য, তেমনি তরুণদের সংস্কারের দাবিগুলোও ন্যায্য। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সংস্কার, বিচার, নির্বাচন এর কোনোটাকেই আমি একটার সাথে আরেকটা সাংঘর্ষিক মনে করি না। এর পুরোটা মিলেই হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, ৭১ এর মুক্তির লড়াই, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান। কিন্তু এ প্রত্যেকটা কাজ করতে হবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে। একটা সুপ্ত জিনিস, হক জিনিসও চাপিয়ে দিলে জাতি মেনে নেয় না। তিনি বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে মোটা দাগে বড় দুটি জনগোষ্ঠীর অবদান রয়েছে। ১৬-১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন সংগ্রাম করেছে ভোটের জন্য, নির্বাচনের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য। তাদের লম্বা দীর্ঘ মেয়াদি কোরবানি রয়েছে। হাজার হাজার মানুষ শহিদ হয়েছে, প্রতিবন্ধী হয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে। তাদেরও বড় একটা অবদান রয়েছে।
দ্বিতীয় যেটা হয়েছে গত জুন, জুলাই, আগস্টে বাংলাদেশের আকাশে নতুন নক্ষত্র এসে হাজির হয়েছে। তারা হচ্ছে আমাদের তরুণরা, যুবকরা, আমাদের শিক্ষার্থীরা। এই দুইটা অংশীজনের ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। এ সময় সংস্কার, নির্বাচন, বিচারের একটি সম্মিলিত রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক। তিনি মনে করেন এ রোডম্যাপ ধরে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের সম্মিলিত ব্যর্থতা ছিল বরিশাল অঞ্চলে। ৭১ এর চেয়েও জরাজীর্ণ অবস্থায় বাস করছি। ন্যূনতম সামাজিক, মানব মর্যাদা, সাম্য নিশ্চিত করতে পারেনি। মনে রাখতে হবে ৭১ এর ব্যর্থতা ৯০ বা ২৪ জন্ম দিয়েছে। মতবিনিময় সভায় বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনসহ গণমাধ্যমকর্মী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।