শুক্রবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রণয়নে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের

সংবাদের আলো ডেস্ক: সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রুপান্তর করার প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকা কলেজের সকল ক্রিয়াশীল সংগঠনের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ঢাকা কলেজ প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর তিনটায় মতবিনিময় সভা শেষে ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রণয়নে ১৫ দিনের আল্টিমেটামের ঘোষণা দেন সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনের রূপান্তর টিমের ফোকাল পার্সন ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান এবং এতে সমর্থন দেয় উপস্থিত ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ঢাকা কলেজ সকল ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরে সাত কলেজের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যহত হয়েছে। ঢাবি অধিভুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে সাধুবাদ জানায়। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সাত কলেজের বিষয়ে স্বতন্ত্র রূপরেখা ও রোডম্যাপ প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানায়। প্রো- ভিসি মামুন স্যার সাত কলেজ শিক্ষার্থী ও ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘাত উষ্কে দিয়েছেন। তিনি মেইন উষ্কানিদাতা। প্রো-ভিসি মামুন স্যার রূপান্তর টিমে থাকলে এই কার্যক্রম ব্যাহত হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর টিম থেকে মামুন স্যারকে অব্যাহতির দাবি জানাচ্ছি এবং যেই স্বৈরাচারের দালাল পুলিশ হামলায় জড়িত তাদের গ্রেফতারের দাবি জানায়।সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের রূপান্তর টিমের ফোকাল পার্সন ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, আমরা তৃতীয় পক্ষকে সুবিধা দিতে চাই না। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কোন কর্মসূচি আমরা দিবো না। মনে রাখতে হবে শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ না। ঢাবির বাস ভাঙচুর হবে এমন কোন ঘটনা ঘটবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরস্পর পাশাপাশি থেকে আমরা শিক্ষা অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে চাই। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তরের রূপরেখা প্রকাশের দাবি জানায়। ঢাকা কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে মামুন শেখ বলেন, নিউমার্কেট থানা ঘেরাওয়ের মতো এরকম সিদ্ধান্ত থেকে আমরা বের হয়ে এসেছি। ঢাবি প্রো-ভিসি মামুন স্যার শিক্ষকসুলভ আচরণ করেননি । তিনি আগে থেকে দায়ীত্বশীল ভূমিকা পালন করলে এমন সংঘাতের ঘটতো না । এমন কোন আচরণ করবো না যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। ঢাকা কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আ.ক.ম রফিক বলেন, নতুন কাঠামোতে শিক্ষকদের যেন উপেক্ষা করা না হয় সেদিকে আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ইউজিসির কাছে সুচিন্তিত মতামত দিতে হবে। নতুন কাঠামো যেটা আসবে সেটাকে আমরা স্বাগত জানাই।অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, সাত কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য একটি নীতিমালা প্রয়োজন হবে। সংকট নিরসনের জন্য আমাদের সকল পক্ষের সাথে আন্তঃযোগাযোগ রাখতে হবে। চলমান সাত কলেজের পরীক্ষা সহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম সবকিছু চলমান রাখার জন্য ইউজিসি, ঢাবি কর্তৃপক্ষের সাথে সম্বন্বয় প্রয়োজন আছে। উদ্ভূত বিভিন্ন ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কি পদক্ষেপ নিবে এটা আমাদের বিষয় না। এছাড়াও পুলিশের শিক্ষার্থীকে হামলার ঘটনার জন্য পুলিশের একটা দায় আছে সে অনুযায়ী বিচারের জন্য একটা প্রত্যাশা রয়েছে। সাত কলেজের সকল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান করি। ছাত্রদের সব দাবি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেন কোনরকম বিভেদ বা অনৈক্য না থাকে। আমাদের ঐক্য বিনষ্টের জন্য নানারকম চক্রান্ত চলছে। সাত কলেজের সমস্যাগুলোকে আমরা প্রত্যেকটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অ্যাড্রেস করবো। উচ্চ পর্যায়ের কমিটি একটি স্বতন্ত্র কাঠামোর রূপরেখা দেবে। এছাড়াও চলমান পরীক্ষা বাধাগ্রস্ত করলে সে যেই করুক তাকে আমরা ছাড় দিবো না। শিক্ষার্থীদের সাথে ছাত্রদের আমাদের কোন বিরোধ নেই। আমরা নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সবকিছুর সমাধানে যাবো, যদি সমাধান না হয় তখন আমরা রাস্তায় যাবো। সাত কলেজে ইস্যু নিয়ে আমাদের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কোন আপত্তি নেই। উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের পর ২৭ তারিখ অধিভুক্ত বাতিলের ঘোষণা দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়