শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

৭০ জন নবী নামাজ আদায় করেছিলেন যে মসজিদে

সংবাদের আলো ডেস্ক: সৌদি আরবের দক্ষিণ মিনার আল-দিবাআ পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদুল খাইফ। এই স্থানে মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, মুসা আলাইহিস সালামসহ ৭০ জন নবী নামাজ আদায় করেছেন। এ জন্য একে নবীদের মসজিদও বলা হয়। মসজিদের সামনে স্থাপিত সাইনবোর্ডে বেশ ৭টি ভাষায় লেখা রয়েছে মসজিদের নাম। সেখানে বাংলাতেও লেখা আছে- আল খায়েফ মসজিদ। মিনার দক্ষিণে ছোট জামরার কাছে এ প্রাচীন মসজিদটি অবস্থিত। রাসূল (সা.) মিনায় অবস্থানকালে এ মসজিদে নামাজ আদায় করতেন (তবারানি আওসাত: ৫৪০৭) বৃহদাকার মসজিদের উঁচু মিনারগুলো বেশ দূর থেকে পাহাড়ের চূড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নবীজি বিদায় হজে মসজিদে খায়েফে নামাজ পড়েছেন। এ মসজিদের অনেক ফজিলত হাদিস ও ইতিহাসের গ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে। ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে, এই মসজিদের দৈর্ঘ্য ছিল ১২০ মিটার এবং প্রস্ত ছিল ৫৫ মিটার। সে হিসাবে এটি ছিল ওই সময় আরব অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মসজিদ।এমনকি তখন মসজিদে হারামের চেয়েও বড় ছিল এই মসজিদের আয়তন। ৮৭৪ হিজরিতে মিসরের মামলুকি সুলতান কাইতবা এই মসজিদ পুনর্নির্মাণ করেন।মসজিদের ওই স্থাপনাটি কয়েক দশক আগ পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল।

এখন থেকে তিন দশক আগে ১৪০৭ হিজরিতে এই মসজিদ পরিবর্ধন ও পুনর্নির্মাণ এক বিশাল পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মসজিদের আয়তন আগের চেয়ে চারগুণ বাড়িয়ে প্রায় ২৫ হাজার বর্গমিটার করা হয়। খায়েফ মসজিদে এখন ৩০ হাজার মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের চারকোণায় অবস্থিত চারটি সুউচ্চ মিনার মসজিদটিকে দান করেছে অপার সৌন্দর্য। খায়েফ মসজিদ হচ্ছে মক্কার কাফেরদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের এক স্মৃতিচিহ্ন। ইতিহাসে এসেছে, পঞ্চম হিজরিতে ইহুদিদের প্ররোচনায় মক্কার কাফেররা মদিনায় হামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ লক্ষ্যে তারা কিছু আরব গোত্রের সঙ্গে সন্ধি চুক্তি করে। এই সন্ধি চুক্তি করার জন্য মক্কার কাফেররা যে স্থানটি বেছে নেয় পরে সেখানেই খায়েফ মসজিদ নির্মিত হয়। মূলত মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফের গোত্রগুলোর ঐক্যের ব্যর্থতার নিদর্শন হিসেবে মসজিদটি দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়ত ঘোষণা করছে, ইসলামের বিজয়গাঁথা ইতিহাসকে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) খায়েফ মসজিদের যে জায়গায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছিলেন ওসমানিয় শাসনামলে সেখানে একটি বড় গম্বুজ ও মেহরাব তৈরি করা হয়। এখন অবশ্য সেটি আর নেই।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়