বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বিশ্ব ফুটবলের কোচ তৈরির আঁতুড় ঘর আর্জেন্টিনা

সংবাদের আলো ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল কোনটি’? এমন প্রশ্নের জবাবে যে কেউ অনায়াসে বলে দিবে যে কেউ বলে দিবে সহজেই ব্রাজিলের নাম। শুধু তাই নয়, বরাবরই ফুটবলার রপ্তানিতে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে থাকে ব্রাজিল। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ীদের বলা হয় ফুটবলার তৈরির কারখানা। কিন্তু ফুটবল জগতে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার চেয়ে ট্রফি, ফুটবলার তৈরি সবখানে এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনার দাপট ও কম নয়। কারণ ব্রাজিল যদি ফুটবলার তৈরির কারখানা হয়ে থাকে তবে আর্জেন্টিনা কোচ তৈরির। যার প্রমাণ মিলে চলমান কোপা আমেরিকার দলগুলোর কোচিং প্যানেলের দিকে তাকালে।যেখানে অংশ নেওয়া ১৬টি দলের মধ্যে ৭টি দলের প্রধান কোচের ভূমিকাতেই আছে আর্জেন্টাইন কোচ। বিপরীতে ব্রাজিলের কোচের সংখ্যা মাত্র দু’জন। শুধু যে সংখ্যায় আর্জেন্টাইনদের দাপট তা নয়। পারফরম্যান্সও কথা বলছে আর্জেন্টাইনদের পক্ষেই। গ্রুপপর্ব যেই চার দল গ্রুপসেরা হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে তার প্রতিটি দলের কোচই আর্জেন্টাইন। সেই দলগুলো হলো আর্জেন্টিনা, ভেনেজুয়েলা, উরুগুয়ে ও কলম্বিয়া। আর্জেন্টিনা দলে কাজ করছে লিওনেল স্কালোনি। যার অধীনে সবশেষ কাতার বিশ্বকাপ জিতেছে মেসিরা। কোপায় খেলতে নেমেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। এবারও স্কালোনির দল কোপার অন্যতম দাবিদার।গ্রুপপর্বে তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয় তুলে সে পথেই হাঁটছে দলটি। কোয়ার্টারে তাদের প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর। ভেনেজুয়েলায় প্রধান কোচের ভূমিকায় আছেন আর্জেন্টাইন কোচ ফার্নান্দো বাতিস্তা। তার অধীনে নতুন রূপে ধরা দিয়েছে ভেনেজুয়েলা। ফুটবলাররা খেলছেন আক্রমণাত্মক ফুটবল। গ্রুপ ‘বি’ তে টানা তিন ম্যাচে জয় তুলে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে দলটি। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কানাডা।’ উরুগুয়ের প্রধান কোচের ভূমিকায় আছেন আর্জেন্টাইন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। যাকে বলা হয় কোচদের কোচ। সেই তিনি এবার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন উরুগুয়েকে কোপা জয়ের। তার অধীনে দারুণ ফুটবলও খেলছে দলটি।প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিচ্ছে দলটির ফুটবলাররা। ‘সি’ গ্রুপে তিন ম্যাচই জয় তুলে কোয়ার্টারে পা রেখেছে উরুগুয়ে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। কলম্বিয়ার প্রধান কোচের ভূমিকায় আছেন আর্জেন্টাইন কোচ নেস্তর লরেনজো। তার অধীনে বদলে গেছে কলম্বিয়া। টানা ২৬ ম্যাচ অপরাজিত দলটি। সবশেষ ম্যাচে ব্রাজিলকে রুখে দিয়েছে ১-১ গোলে। কোয়ার্টারে পা রেখেছে গ্রুপসেরা হয়ে। এখন কোয়ার্টারে তাদের প্রতিপক্ষ পানামা। বলা হয়ে থাকে, আর্জেন্টাইন কোচরা ট্যাকটিক্যালি ও দল ব্যবস্থাপনা-দুই দিক ভালো পারদর্শী। ফুটবলীয় সাফল্য ও দক্ষতায় আর্জেন্টিনার সঙ্গে সব সময়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে প্রতিবেশী ব্রাজিলের। পাঁচবার বিশ্বকাপ জেতা ব্রাজিল আন্তর্জাতিক ফুটবলে অনেক দুর্দান্ত খেলোয়াড় উপহার দিলেও কোচ সরবরাহের দিক থেকে বেশ পিছিয়ে। বিপরীতে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের সেরা কোচদের অনেকেই আর্জেন্টিনা থেকে উঠে আসা। লুইস সিজার মেনোত্তির (’৭৮-এর বিশ্বকাপজয়ী কোচ) উত্তরসূরিরা উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেন নিজেদের বৈচিত্র্যের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতায়ও। ২০২৪ সালেই যেমন ব্রাজিলের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে কোচিং করাচ্ছেন আর্জেন্টিনারই গ্যাব্রিয়েল মিলিতো (অ্যাটলেটিকো মিনেইরো), র্যামন ডিয়াজ (ভাস্কো দা গামা’), এদুয়ার্দো কোদেত (ইন্টারন্যাশিওনাল), নিকোলাস লারকামন (ক্রুজেইরো) ও হুয়ান পাবলো ভোবোদারা (ফোর্তালেজা) অথচ আর্জেন্টিনার লিগে ব্রাজিলিয়ান কোচ দেখাই যায় না।যেমন বুয়েনস এইরেসের ক্লাব কোবা জুনিয়র্স ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ব্রাজিল থেকে কোচ নিয়েছে মাত্র দুবার। আর্জেন্টাইন কোচদের চাহিদা বাড়ার অন্যতম কারণ স্কালোনিও। ২০১৮ সালে জাতীয় দল চালানোর অভিজ্ঞতা ছাড়াই লিওনেল মেসিদের দল দেখভালের দায়িত্ব ছিলেন তিনি। সেই অনভিজ্ঞ স্কালোনির অধীনই সর্বশেষ তিন বছরের মধ্যে বৈশ্বিক, মহাদেশীয়সহ তিনটি ট্রফি জিতেছে আর্জেন্টিনা।যে দেশের কোচ অনভিজ্ঞ হলেও সফলতা এনে দিতে পারেন, বহন করেন সফল কোচদের উত্তরাধিকার, মানিয়ে নিতে পারেন বৈচিত্র্যের সঙ্গে-এমন নানামুখী গুণের কোচের দ্বারস্থ অন্যরা হবে না কেন! এবার কোপায় ১৬ প্রায় অর্ধেক কোচই ছিলেন আর্জেন্টাইন, চারজনের দল গ্রুপ-সেরা হয়ে শেষ আটে। কে জানে, ভবিষ্যতে কলম্বিয়ানদের মতো আরও কোনো দেশের ঈর্ষাকাতরদের বলতে হয় কি না ‘আর্জেন্টাইন পাসপোর্ট আছে বলেই …!

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----