বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

প্রচন্ড তাপদাহে সিলিং বিহীন টিনের ঘরে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা

 উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ চলনবিল অধ্যুষিত উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়ান ইউনিয়নের তেলিপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনের শ্রেণিকক্ষগুলোর চাল ও বেড়া সবই টিনের। তার উপর চালে নেই কোন ধরনের সিলিং। চলমান প্রচন্ড তাপদাহে এই ভবনে বসেই ক্লাস করছে প্রায় ৫ শত ছাত্র ছাত্রী। শ্রেণিকক্ষে কয়েকটি করে ফ্যান থাকলেও সিলিং না থাকায় এই দাপদাহে ফ্যানের বাতাসে শরীরের ঘাম না শুকিয়ে বরং আগুনের হল্কা ছোঁয়াচ্ছে। এই গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। ১৯৯৭ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর দু’বছর আগে নি¤œ মাধ্যমিক পর্যন্ত এমপিও ভুক্ত হয়েছে। বর্তমানে নবম ও দশম শ্রেণি খোলা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার মানও বেশ ভালো।

এই স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মৌ, অভিজিৎ, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রাপ্তি ও মৃত্তিকা জানায়, এবছর ঈদুল ফিতরের পর প্রচন্ড তাপদাহ চলছে। ঈদুল ফিতরের ছুটির দাপদাহের কারনে আবারও স্কুল ছুটি হয়। গত ২৮ এপ্রিল স্কুল খুললে চলমান প্রচন্ড রৌদ্র তাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তারা। টিনের চালা, টিনের বেড়ার ঘরে সিলিং না থাকায় অসহনীয় কষ্টসহ্য করে তাদেরকে ক্লাস করতে হচ্ছে। তাদের পাশাপাশি শিক্ষকগণও যথেষ্ট দুভোর্গ সয়ে ক্লাস করাচ্ছেন। প্রতিদিন তাপদাহ আরো বাড়ছে। এ অবস্থায় তারা শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এসব শিক্ষার্থী জানায়, প্রতি মূহুর্তে যেন আগুনের গোলা এসে তাদের গায়ে লাগছে। কিন্তু তারা একেবারেই নিরুপায়। ফলে অবিলম্বে এসব শিক্ষার্থী মর্নিং স্কুল চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মধুসূদন সরকার জানান, অত্যন্ত গরীব অধ্যুষিত এলাকায় স্কুলটি অবস্থিত। এখানে বেশির ভাগ পরিবার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর। ফলে শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেকাংশ নৃ-গোষ্ঠীর। বাকিরা মুসলিম ও হিন্দু পরিবারের। প্রায় ২০ বছর ধরে এই স্কুলে পাকা ভবনের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু সে আবেদন আমলে নেয়নি শিক্ষা বিভাগ। ফলে এই প্রতিষ্ঠানে পাকা ভবন হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তারা দুঃখ কষ্ট করছেন। বর্তমানে প্রচন্ড তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অথচ লেখাপড়া শেখার তাগিদে এ এলাকার ছেলে মেয়েরা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যেই স্কুলে আসছে। আর শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করতে গিয়ে দুঃসহ যন্ত্রনা ভোগ করছে তারা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অভাবী পরিবারের ছেলে মেয়েরা স্কুলে ঠিকমতো বেতন দিতে পারে না। স্কুল তহবিলের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। সে কারনে শ্রেণি কক্ষগুলোতে সিলিংও দিতে পারছেন না। গত বছর এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই কৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে ১০জন শিক্ষার্থী পেয়েছে জিপিএ ৫।

এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ, কে, এম শামছুল হকের সঙ্গে কথা বললে তিনি তেলিপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীদের দুভোর্গের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, এই বিদ্যালয়ে পাকা ভবনের জন্য স্থানীয় শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের এই তাপদাহের মধ্যে শ্রেণি পাঠগ্রহণ সত্যি অসহনীয় হয়ে পড়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের মনিং স্কুলের দাবির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে উল্লেখ করেন।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----