রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

পদত্যাগ করবেন মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করবেন? এই প্রশ্নটি আজ সারাদিন ধরে বিএনপিতে আলোচিত হয়েছে, পল্লবিত হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এর আগেই তিনি মহাসচিবের পদ থেকে সরে যাওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে নতুন মহাসচিব না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু এখন তিনি অভিমান করেই পদত্যাগ করবেন বলে বিএনপির একাধিক নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি বিলুপ্তি নিয়ে। ঢাকা এবং চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে গত রাতে আকস্মিকভাবে।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বিলুপ্তির খবর ঘুণাক্ষরেও জানতেন না। তিনি দলের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। বাংলাদেশে বিএনপির রাজনীতিতে তিনি মুখ্য ভুমিকায় অবতীর্ণ আছেন। কিন্তু তাকে অবহিত না করে এভাবে হুট করে কমিটি বিলোপ করা, তাকে অপমানিত করার সামিল বলেই মনে করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর এ কারণেই তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন।’ উল্লেখ্য যে, ২৮ অক্টোবরের বিএনপির তাণ্ডবের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। নির্বাচন শেষে আদালতের জামিনে তিনি মুক্তি পান। মুক্তি পেয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের শারীরিক অসুস্থতা এবং স্ত্রীর অসুস্থতার জন্য দল থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এই অনুযায়ী তিনি লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন।

পাশাপাশি তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি তার অবস্থার কথা বলেন। কিন্তু বেগম জিয়া তাকে একজন নতুন মহাসচিব খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন। সে অনুযায়ী মির্জা ফখরুল কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন বটে। তবে দলে তার আগের মতো তৎপরতা ছিল না। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি সস্ত্রীক সিঙ্গাপুরে যান চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে ফিরে আসার পর তিনি ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। সবকিছু মিলিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন আগের অবস্থানে নেই। দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তার মনোযোগ নেই।’ এর প্রধান কারণ হল তারেক জিয়া। তারেক জিয়া তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন।

কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার মতামত গ্রহণ করে না। এমনকি তিনি দলের বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করেন এমন অভিযোগও উঠেছে। কিন্তু গত রাতে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বিএনপির মহাসচিব। বিএনপির মহাসচিবের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে যে, ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণ তুলনামূলকভাবে ভালো কাজ করছিল। বিশেষ করে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল প্রশংসনীয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উত্তর এবং দক্ষিণ মহানগরের প্রতি বিশেষ আস্থা রাখতেন বলেও জানা যায়। আর এ কারণেই ঢাকার দুটি কমিটি বিলুপ্ত হওয়াতে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি বলে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে।’ তবে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, মহানগর কমিটি বিলুপ্ত হতেই পারে বা অন্য কমিটিও দলের চেয়ারপার্সন বিলোপ করতেই পারেন। কিন্তু সেটি একটি গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হওয়া উচিত বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন। গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে যেনতেনভাবে কমিটি বাতিল, কোন সভ্য রাজনৈতিক দলের কাজ না বলেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়