সোমবার, ২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

নেত্রকোণার পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

নেত্রকোণা প্রতিনিধি: পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ এর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন নেত্রকোণা জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. লুৎফর রহমান এ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রেরণ করেন। এর আগে সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার মদনপুর এলাকায় লুৎফুর রহমান ফকির ওরফে আলিফ ফকির নামে এক ব্যক্তি নেত্রকোণা পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদের বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলণ করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান ফকির ওরফে আলিফ ফকিরের বিরুদ্ধে কলমাকান্দার অলি আহমেদ নামে এক ব্যক্তির মামলায় গত ২১ মার্চ কলমাকান্দা থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেন। সঠিক আইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পুলিশ আলিফ ফকিরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। একই উপজেলার অপর এক মহিলার আবেদনের প্রেক্ষিতে নেত্রকোণা জেলা জজ কোর্টের নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল এর নির্দেশে কলমাকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন—২০০৯ এ ৫ এপ্রিল মামলার অজু হয়। এ দুই মামলার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। লুৎফুর রহমান এর অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য বিভিন্ন সময় মামলা মোকাদ্দমা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জন ২০০৮ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টা থানায় চুরির অভিযোগ মামলা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, লুৎফুর রহমান নারি কেলেঙ্কারির কারণে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হয়। বিভিন্ন সময় বিজিবি, পুলিশ ও ডিজিএফআইয়ের সোর্স হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে মাদক, চিনিসহ বিভিন্ন চোরা চালানের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যায়। তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করেন। মাদক সেবনরত অবস্থায় ছয় মাস পূর্বে ময়মনসিংহ জেলার গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আটক হয়েছিলেন। আলিফ ফকির নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায় প্রকৃতপক্ষে তিনি সাংবাদিক নন। বরং সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আর্থিক প্রতারণা করে থাকেন।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, ফয়েজ আহমেদ পুলিশ সুপার হিসেবে ২২ আগস্ট ২০২২ সালে নেত্রকোণা জেলা যোগদান করেন। যোগদানের পর হতে তিনি সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি পিপিএম সেবা পদকে ভোষিত হয়েছেন এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের দুইবার শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার স্বীকৃতি পেয়েছেন। নেত্রকোণা জেলা পুলিশ চোরাচালান প্রতিরোধে অবদান রাখার জন্য ২০২৩ সালে সারাদেশে ‘খ’ ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে।

সম্প্রতি জঙ্গি দমনে নেত্রকোণা জেলা পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অপরাধ দমনের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা সাথে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য মোঃ লুৎফুর রহমান ফকির নিজ নামে দায়েরকৃত দুটো মামলা হতে রক্ষা পাওয়ার এবং জনমনে পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে নীতিবাচক মনোভাব তৈরির জন্য ক্রমাগত মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। আলি ফকিরের মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত না হয়ে অনুসন্ধানপূর্বক খবর প্রকাশের জন্য সংবাদ কর্মীদের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----