সোমবার, ২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

দুই ভাইয়ের বিরোধে বিব্রত কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিন তিনবার সাধারণ সম্পাদক হয়ে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন। কিন্তু দলে শৃঙ্খলা আনতে পারছেন না, দলের ভেতর এখন চলছে ‘ফ্রি স্টাইল’। যে যার মতো করে বিরোধ করছে, কোন্দল করছে। যেকোন সিনিয়র নেতাকে অপমান অবজ্ঞা করা হচ্ছে। দলে কোন ‘চেইন অব কমান্ড’ নাই। আওয়ামী লীগের নেতারাই স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের ‘চেইন অব কমান্ড’ সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে পড়েছে। আর এই সাংগঠনিক বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। কিন্তু তিনি দেখবেন কি, নিজেই তিনি এখন বিব্রত-প্রশ্নবিদ্ধ। তার দুই ভাইয়ের বিরোধে নোয়াখালীতে সৃষ্টি হয়েছে অশান্ত এক অবস্থা। তিনিও নোয়াখালীতে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে তার বিরোধ এখন প্রকাশ্য।

আজ ছিল নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন। কিন্তু এই নির্বাচনে ওবায়দুল কাদেরের দুই ভাইয়ের বিরোধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান এবং এজেন্টদের মারধরের অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাদাৎ হোসেনসহ আরও দুই জন। তারা পুনরায় নির্বাচনের দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, সকাল ৯টা থেকে বসুরহাট পৌরসভা মেয়র আব্দুল কাদের মীর্জা সমর্থিত প্রার্থীর সঙ্গে তার সমর্থিত লোকজন বিভিন্ন কেন্দ্রে হামলা চালায়। বোমা ফাটিয়ে তারা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র দখল করে নেয়। এরপর প্রায় ৪০টি কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদান করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য যে, বসুরহাট পৌরসভা মেয়র আব্দুল কাদের মীর্জাও ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই।

দীর্ঘ দিন ধরেই আব্দুল কাদের মীর্জার সাথে ওবায়দুল কাদেরের খুব একটা সক্ষতা নেই। তাদের মধ্যে নানারকম টানাপোড়েন আছে। বিশেষ বসুরহাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ওবায়দুল কাদেরের কড়া সমালোচনা করেছিলেন এবং এই সমালোচনার সূত্র ধরেই নোয়াখালীর রাজনীতিতে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এখন নির্বাচন কেন্দ্রিক বিরোধে ওবায়দুল কাদেরের তিন ভাই ত্রিমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছেন।’ ওবায়দুল কাদের নিজে এই উপজেলা নির্বাচনের আগে এমপি-মন্ত্রীদের স্বজনরা যাতে নির্বাচন না করে সে ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, আত্মীয়-স্বজনদের মনোনয়ন দেয়া হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু সেই বক্তব্যে শেষ পর্যন্ত অটল থাকতে পারেননি ওবায়দুল কাদের। তার সিদ্ধান্ত অমান্য করেই বিভিন্ন স্থানে মন্ত্রী-এমপিদের আত্মীয়-স্বজনরা প্রার্থী হয়েছেন।

ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাৎ প্রার্থী হয়েছেন ওবায়দুল কাদেরের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে, এমন বক্তব্য নোয়াখালীতে এখন ব্যাপকভাবে চালু আছে। আর তাই কাদের মীর্জা তার বিরোধীতা করেছিল বলেও স্থানীয় এলাকাবাসী মনে করে। শাহাদাৎকে কীভাবে উপজেলা নির্বাচনে কিভাবে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়া হলো তা নিয়েও জনগণের মধ্যে নানারকম বক্তব্য আছে। অন্যদিকে কাদের মীর্জা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং একরামুল করিমকে প্রতিহত করার জন্যই কোম্পানিগঞ্জে তার নিজের প্রার্থী দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সবকিছু মিলিয়ে নোয়াখালীর রাজনীতিতে একটি হযবরল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক যদি নিজের ভাইদেরকেই সামল দিতে না পারেন, তাহলে তিনি দলের বিরোধ কীভাবে সামলাবেন। আর নোয়াখালীর এই অবস্থা নিয়ে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কোন বক্তব্য দেননি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তার আরেক ভাই এবং অন্যান্য প্রার্থীরা কোম্পানিগঞ্জে তার বাসার সামনে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন সমাধানই হয়নি।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----