মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

তেঁতুলিয়ায় স্ত্রীর সাথে বিবাদের ঘটনায় স্বামীকে পেটানোর অভিযোগ গ্রাম পুলিশ- ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় স্ত্রীর সাথে পারিবারিক কলহ ও বিবাদকে কেন্দ্রের ঘটনায় দেলোয়ার হোসেনের  নামে এক যুবকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও গ্রাম পুলিশ নুর ইসলামের বিরুদ্ধে।

ঘটনার পর থেকে ওই ভুক্তভোগী যুবক তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এঘটনায় আজ রোববার দুপুরে ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন  ওই ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসন ও তেঁতুলিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

জানা গেছে ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের  পাথর ঘাটা এলাকার মো. সাকুর ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং নুর ইসলাম ওই ইউনিয়ন গ্রাম পুলিশ হিসাবে কর্মরত রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ পারিবারিক সমস্যার কারণে গত ০১ জুন তার শশুর সাইফার তেঁতুলিয়া মডেল থানায় একটি মৌখিক অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও গ্রাম পুলিশ নুর ইসলাম দ্বারা তার বাড়িতে গিয়ে তাকে জানায় তার বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ তাদের সাথে তার স্ত্রী -সন্তানকে পাঠিয়ে দিতে হবে৷  এমন বলার কিছুক্ষণ পর ওই ইউপি সদস্য  ও গ্রাম পুলিশ তার স্ত্রীর সাথে গোপনে রান্নাঘরে কথা বলতে

গেলে এসময় দোলোয়ার তাদের কথা বলতে বাধা দিলে পরে তারা দুজন দেলোয়ারকে বিভিন্ন গালিগালাজ ও প্রাণনাশের  হুমকি দেয়৷ ওরে এক পর্যায়ে বাড়িতে থাকা মোটরের পাইপ ও দেশিও লাঠিসোটা দ্বারা তারা মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এসময় দেলোয়ার আহত হয়ে মাটি পড়ে গেলে তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়৷ পরে তার পরিবারের লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা স্ত্রীর সাথে ঝগড়া বিবাদ চলছে। এটা সবার হয় কমবেশী। গতকাল ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও গ্রাম পুলিশ নুরু ইসলাম ওরফে নুরু চৈকা আমার বাড়ি যায়৷ বাড়িয়ে যাওয়ার পর  তারা আমাকে মোটরের পাইপ দিয়ে মারধর করে৷ রফিকুল ইসলাম মেম্বার আমাকে ধরে রাখে এবং গ্রাম পুলিশ আমাকে মারধর করতে থাকে। পরে আমি আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যাই৷ আহত অবস্থায় আমি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। আমি তাদের বিচার চাই। আমি যদি কোন ভুল করি তার শাস্তি আমি পাবো কিন্তু তারা আমাকে আমার বাড়িতে গিয়ে যে মারধর করলো তার শাস্তি চাই।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন,আমরা গতকাল গ্রাম পুলিশ সহ তার মা ও স্ত্রীর সাথে কথা বলার সময় হঠাৎ দেলোয়ার বটি( দেশীয় অস্ত্র) নিয়ে তার স্ত্রীকে মারতে আসলে আমরা বাঁধা প্রদান করি৷ এক পর্যায়ে ওই গ্রাম পুলিশের সাথে হাতাহাতি হয়। অন্যদিকে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ নুর ইসলাম ওরফে নুরু চৈকা বলেন, তাকে আমরা মারধর করিনি। তিনি তার স্ত্রীকে মারধর করতে গেলে আমরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করি। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে রাব্বি জানান, আমি এঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি৷ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে৷

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়