বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

জবির মসজিদে ঘুমন্ত নারী শিক্ষার্থী, খতিবের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন’

সংবাদের আলো ডেস্ক: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঘুমন্ত অবস্থায় এক নারী শিক্ষার্থীকে পাওয়ার ঘটনায় মসজিদের খতিব সালাহউদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার (২৭ মে’) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ৫ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়। আদেশে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারী শিক্ষার্থী রাত ১১ টা ২০ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান ও ঘুমানো এবং ইমামের দায়িত্ব অবহেলার তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করতে ৫ জনকে দায়িত্ব দেয়া হলো। এতে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমানকে আহবায়ক ও সহকারী প্রক্টর খালিদ সাইফুল্লাহকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. পারভীন আক্তার জেমী, আইসিটি সেলের পরিচালক ড. আমিনুল ইসলাম ও একাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এএনএম আসাদুজ্জামান ফকিরকে রাখা হয়েছে।

বিস্তারিত ঘটনার বিষয়ে জানতে প্রশ্ন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মসজিদের খতিব সালাহউদ্দীনের বিরুদ্ধে মসজিদের ‘স্পর্শকাতর’ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকায় সহকারী ইমামকে নামাজ পড়ানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’ এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মসজিদে এক ছাত্রীকে একা রাত ১১ টার দিকে শুয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রক্টরিয়াল বডি বিষয়টি জানার পর তারা আসলে যেন ওই ছাত্রীকে ছাড়তে বলেন। তবে খতিব সালাহউদ্দীন অসুস্থ অবস্থায় থাকা ওই ছাত্রীকে তড়িঘড়ি করে বের করে দেন। এবিষয়ে প্রক্টর পরেরদিন ঘটনা জানতে খতিবকে অফিসে তলব করলেও তিনি আসেন নি।’

এর আগে খতিব সালাহউদ্দীনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ দেখা যায়। ২০১৩ সালে খতিব সালাহউদ্দিন আহমেদ তারাবী নামাজের ইমামতি করার সময় কোরআন তেলাওয়াতের ভুল ধরার জন্য অপবাদ দিয়ে সহকারি ইমাম আনোয়ার হোসেন ও মুয়াজ্জিন ইমদাদুল হককে অন্য দপ্তরে বদলি করিয়ে দেন। ওই সহকারী ইমাম ও মুয়াজ্জিন ১১ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরে রয়েছেন। অন্যদিকে সেই সময় থেকে মসজিদের সহকারী ইমাম হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার (পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে সহকারি লাইব্রেরিয়ান) শেখ মো. সালাহ উদ্দিনকে ও মুয়াজ্জিন হিসেবে বাসের হেলপার মোঃ হাসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ভুক্তভোগী সহকারী ইমাম আনোয়ার মুয়াজ্জিন ইমদাদুল হক তাদের প্রতি খতিবের এমন আচরণের বিষয়টি জানান।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----