বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

চাঁদা দাবি নানা প্রতিবন্ধকতায় উল্লাপাড়া মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে চলে গেলো ঠিকাদার, এখানে চাষ হচ্ছে সবজি

রায়হান আলী: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর বাসটার্মিনালের পাশেই সরকারিভাবে মডেল মসজিদ ইসলামিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র  নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মডেল মসজিদ ইসলামিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভবন নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ১১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় গণপূর্ত বিভাগ। ২০১৯ সালের জুনে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান
ফার্স্ট এস এস কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড গণপূর্ত বিভাগের সাথে চুক্তি হয়।
এরপর কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সালের  ২৬ এপ্রিল  মডেল মসজিদ ইসলামিক শিক্ষা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। এরপরে নানা অনিয়মের ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসক। পরে সঠিকভাবে কাজ করলেও
চুক্তির ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ কাজ ৩০ শতাংশ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। অথচ গণপূর্ত বিভাগের সাথে চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিলো। কিন্তু ৫ বছরে ও কাজ শেষ করতে না পারায় এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা। ঠিকাদারি  প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট এস এস কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড বাকি কাজ না করেই নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে চলে গেছে। কাজ করবে না বলে জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।মসজিদের জায়গাটিতে এখন চাষ হচ্ছে সবজি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষে তালা ঝুলছে। এখানে দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার আজিজ মোল্লা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে বলা হয়েছে তারা এর নির্মাণ কাজ আর করবেন না। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এর নির্মাণ কাজ করতে আসলে তার দায়িত্বে থাকা সব কিছু বুঝিয়ে দেবেন বলে তাকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ফাস্ট এসএস কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ঠিকাদার আর এ কে শাহীনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান ২০১৯ সালে তাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় কিন্তু সংশ্লিষ্ট অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকরা তাদের টাকা বুঝে না পাওয়াতে তারা নির্মাণ কাজে বাঁধা দেন ফলে ২০২২ সালে কাজটি শুরু করেন। এতে ২ বছরে নির্মাণ সামগ্রীর দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় এবং নামে বেনামি চাঁদা চেয়ে ফোনে হুমকি প্রদান এবং কিছু ব্যক্তির নিকট থেকে নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের চাপ দেওয়ায় তাদের কর্মকান্ড ব্যপক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয় এতে আর্থিকভাবে তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হন। তারপরেও মডেল মসজিদের ৩০ শতাংশ কাজ তারা শেষ করে বিল প্রদানের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু সে টাকাও না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা এই কাজ থেকে সরে আসেন এবং গণপূর্ত বিভাগ কে কাজ করবেন না বলে জানিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহমাদুল হাসান বলেন উল্লাপাড়া মডেল মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ভবন নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির কাজ করবে না বলে জানিয়েছেন। এটি নির্মাণের জন্য নতুন করে দরপত্রের আহ্বান করা হবে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়